রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে সিট বরাদ্দ সংক্রান্ত নীতিমালা
এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সমূহে একটি ন্যায্য এবং সুশৃঙ্খল বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার
পাশাপাশি হলের মধ্যে শৃঙ্খলা ও বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত নীতিমালার আলোকে আবাসিক
সুবিধার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।
১. শর্তসমূহ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্নাতক (২য় থেকে ৪র্থ বর্ষ) এবং স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে নিবন্ধিত
শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে।
প্রণীত নীতিমালার আলোকে আইবিএ-এর ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে ফাঁকা সিটের সর্বোচ্চ ১% বরাদ্দ দেওয়া হবে।
কোনো শিক্ষার্থী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করে নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে মাস্টার্সে ভর্তি না হলে তার সিট
বাতিল বলে গণ্য হবে।
শিক্ষার্থীর মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা (ইন্টার্নশিপ/ফিল্ডওয়ার্ক/প্রজেক্ট/থিসিস [লিখিত ও
মৌখিক]/ব্যবহারিক/ভাইভা ইত্যাদি) সমাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে হল কর্তৃপক্ষের নিকট তার সিট বুঝিয়ে
দিয়ে হল ত্যাগ করতে হবে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনোভাবেই কক্ষ বা সিট পরিবর্তন করতে পারবে না।
পরীক্ষার ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে পরবর্তী বর্ষের/শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য
করা হবে না।
কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে নিয়োজিত থাকলে, মাদকাসক্ত হলে অথবা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকলে
তাৎক্ষণিকভাবে তার সিট বাতিল করা হবে। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী তার ছাত্রজীবনে পুনরায় হলে আবাসনের জন্য
আবেদন করতে পারবে না।
হলের শিক্ষার্থীদের এবং স্টাফদের প্রতি যেকোনো ধরনের হয়রানি অথবা অসদাচরণ করলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ক্লাস, পরীক্ষা চলাকালীন সিট বরাদ্দপ্রাপ্ত কোনো
শিক্ষার্থী হল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত একটানা ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে
তার সিট বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সিট পুনঃবরাদ্দের জন্য ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদানপূর্বক
প্রাধ্যক্ষের নিকট আবেদন করা যাবে। জরিমানা প্রদানপূর্বক সর্বোচ্চ ৩ বার পুনঃবরাদ্দের জন্য আবেদন করা
যাবে।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে সিট বরাদ্দ নিলে অথবা একজনের নামে সিট বরাদ্দ নিয়ে অন্যজন অবস্থান করলে এবং তা
পরবর্তীতে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।
হলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ব্লক বা রাজনৈতিক কক্ষ তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল
করা হবে।
সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন অনুযায়ী এই নীতিমালা সংশোধন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
২. আবেদন প্রক্রিয়া
সকল হলের জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হল থেকে আগামী 17-04-2026
থেকে
30-04-2026 তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
আবেদনের লিংক: https://csd.ru.ac.bd/residency/login
অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার পর অনলাইনের মাধ্যমে ৫৫ টাকা জমা দিতে হবে। পূরণকৃত আবেদন ফরম এবং নিম্নোক্ত
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী
03-05-2026 তারিখের মধ্যে নিজ নিজ
হলে অফিস চলাকালীন সময়ে জমা দিতে হবে।
প্রদানকৃত সকল তথ্য হল প্রশাসন কর্তৃক যাচাই করা হবে। আবেদনের সময় কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে
আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। সাক্ষাৎকারের সময় সমস্ত কাগজপত্রের মূলকপি সঙ্গে
নিয়ে আসতে হবে।
আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের মেধা, জ্যেষ্ঠতা, এবং এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের ভিত্তিতে একটি তালিকা
প্রকাশ করা হবে।
আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে প্রকাশিত তালিকা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে
হবে।
৩. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি (১ কপি)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেটের ফটোকপি।
স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ (জাতীয় পরিচয়পত্র)।
এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বীকৃতি (সার্টিফিকেট/মেডেল)
(অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নয়)।
৪. সিট বরাদ্দের নীতিমালা
সিট বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, ন্যায়তা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ
মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে:
একই বর্ষ বা সেমিস্টারের একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করলে, তাদের মধ্যে "Session-to-Session" ভিত্তিতে
অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, যে শিক্ষার্থীর একাডেমিক সেশন তুলনামূলকভাবে পুরনো, সে সিট বরাদ্দে
অগ্রাধিকার পাবে।
উদাহরণ: তিনজন ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবেদন করেছে — শিক্ষার্থী A: ২০২০-২১ সেশন, শিক্ষার্থী
B: ২০২১-২২ সেশন, শিক্ষার্থী C: ২০২২-২৩ সেশন।
এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ক্রম: A > B > C।
৪.৩. অতিরিক্ত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নির্বাচন
নির্ধারিত সিটসংখ্যার তুলনায় যদি কোনো বর্ষ বা সেমিস্টারে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত
পরীক্ষার ফলাফল (GPA/SGPA/YGPA/CGPA) থেকে ৪৭ নম্বর এবং অতিরিক্ত পাঠক্রমিক কার্যক্রম
(Extra-Curricular Activities) থেকে ৩ নম্বর—মোট ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে
অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সিট বরাদ্দ করা হবে।
আবেদনকারীর স্কোর = (আবেদনকারীর সর্বশেষ GPA/SGPA/YGPA/CGPA ÷ একই রেজাল্ট সিটের সর্বোচ্চ
GPA/SGPA/YGPA/CGPA) × ৪৭ + এক্সট্রা কা. (সর্বোচ্চ ৩)
উদাহরণ: শিক্ষার্থী A-এর GPA: ৩.৪২, সর্বোচ্চ GPA: ৩.৮৮, এক্সট্রা কা.: ৩ ⇒ স্কোর ≈ ৪৪.৪৩।
৪.৪. বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য সিট সংরক্ষণ
মেধাবী ও অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট সিটের
১০% সংরক্ষিত থাকবে। এই সংরক্ষিত সিট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আবেদন ও যাচাই-বাছাই
শেষে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
৪.৫. এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের নম্বর প্রদান
এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বর (সর্বোচ্চ ৩) নির্ধারনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বীকৃতি (সনদ/মেডেল) বিবেচ্য হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
সনদ/মেডেলের জন্য ৩ নম্বর, জাতীয় সনদ/মেডেলের জন্য ২ নম্বর এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সনদ/ মেডেলের জন্য ১
নম্বর প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, একাধিক সনদ/মেডেলের ক্ষেত্রে প্রাপ্য নম্বর সমূহের যোগফল গণ্য করা হবে।
এছাড়া এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আবেদনকারীর সাংবাদিকতা/বি.এন.সি.সি./রোভার স্কাউট/রক্তদান
সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা গণ্য করা হবে। এক্ষেত্রে ১ নম্বর প্রদান করা হবে। সাংবাদিকতার প্রমাণ
হিসেবে আবেদনকারীকে সাংবাদিক সমিতির সদস্য পদের প্রমানপত্র এবং পত্রিকায় তার করা সংবাদের কপি জমা দিতে হবে।
বি.এন.সি.সি./রোভার স্কাউট/রক্তদান সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা -এর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে এ সংক্রান্ত
প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। তবে, সব এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল সর্বোচ্চ ৩ হবে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন আবেদনকারীর জাতীয় পর্যায়ের ১ টি সার্টিফিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১ টি
সার্টিফিকেট এবং সাংবাদিকতার প্রমাণপত্র ও পত্রিকায় তার করা সংবাদের কপি আছে। এক্ষেত্রে তার সব
এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল হবে = ২+১+১=৪। কিন্তু, যেহেতু সব
এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল সর্বোচ্চ ৩ হবে, সেহেতু তার এক্সট্রা/কো-কারিকুলার
কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বর ৩ (সর্বোচ্চ) হবে।