রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রভোস্ট কাউন্সিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে সিট বরাদ্দ সংক্রান্ত নীতিমালা

এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সমূহে একটি ন্যায্য এবং সুশৃঙ্খল বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলের মধ্যে শৃঙ্খলা ও বাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত নীতিমালার আলোকে আবাসিক সুবিধার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।

১. শর্তসমূহ

২. আবেদন প্রক্রিয়া

৩. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

৪. সিট বরাদ্দের নীতিমালা

সিট বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, ন্যায়তা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার জন্য নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে:

৪.১. সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার

শ্রেণী অগ্রাধিকার স্তর
স্নাতকোত্তর সর্বোচ্চ
স্নাতক ৪র্থ বর্ষ উচ্চ
স্নাতক ৩য় বর্ষ মাঝারি
স্নাতক ২য় বর্ষ সীমিত

৪.২. সেশনভিত্তিক অগ্রাধিকার (Session-to-Session ভিত্তি)

একই বর্ষ বা সেমিস্টারের একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করলে, তাদের মধ্যে "Session-to-Session" ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, যে শিক্ষার্থীর একাডেমিক সেশন তুলনামূলকভাবে পুরনো, সে সিট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পাবে।

উদাহরণ: তিনজন ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবেদন করেছে — শিক্ষার্থী A: ২০২০-২১ সেশন, শিক্ষার্থী B: ২০২১-২২ সেশন, শিক্ষার্থী C: ২০২২-২৩ সেশন। এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ক্রম: A > B > C।

৪.৩. অতিরিক্ত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নির্বাচন

নির্ধারিত সিটসংখ্যার তুলনায় যদি কোনো বর্ষ বা সেমিস্টারে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফলাফল (GPA/SGPA/YGPA/CGPA) থেকে ৪৭ নম্বর এবং অতিরিক্ত পাঠক্রমিক কার্যক্রম (Extra-Curricular Activities) থেকে নম্বর—মোট ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সিট বরাদ্দ করা হবে।

আবেদনকারীর স্কোর = (আবেদনকারীর সর্বশেষ GPA/SGPA/YGPA/CGPA ÷ একই রেজাল্ট সিটের সর্বোচ্চ GPA/SGPA/YGPA/CGPA) × ৪৭ + এক্সট্রা কা. (সর্বোচ্চ ৩)
উদাহরণ: শিক্ষার্থী A-এর GPA: ৩.৪২, সর্বোচ্চ GPA: ৩.৮৮, এক্সট্রা কা.: ৩ ⇒ স্কোর ≈ ৪৪.৪৩।

৪.৪. বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য সিট সংরক্ষণ

মেধাবী ও অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট সিটের ১০% সংরক্ষিত থাকবে। এই সংরক্ষিত সিট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আবেদন ও যাচাই-বাছাই শেষে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

৪.৫. এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের নম্বর প্রদান

এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বর (সর্বোচ্চ ৩) নির্ধারনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বীকৃতি (সনদ/মেডেল) বিবেচ্য হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সনদ/মেডেলের জন্য ৩ নম্বর, জাতীয় সনদ/মেডেলের জন্য ২ নম্বর এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সনদ/ মেডেলের জন্য ১ নম্বর প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, একাধিক সনদ/মেডেলের ক্ষেত্রে প্রাপ্য নম্বর সমূহের যোগফল গণ্য করা হবে। এছাড়া এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আবেদনকারীর সাংবাদিকতা/বি.এন.সি.সি./রোভার স্কাউট/রক্তদান সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা গণ্য করা হবে। এক্ষেত্রে ১ নম্বর প্রদান করা হবে। সাংবাদিকতার প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীকে সাংবাদিক সমিতির সদস্য পদের প্রমানপত্র এবং পত্রিকায় তার করা সংবাদের কপি জমা দিতে হবে। বি.এন.সি.সি./রোভার স্কাউট/রক্তদান সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা -এর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। তবে, সব এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল সর্বোচ্চ ৩ হবে। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন আবেদনকারীর জাতীয় পর্যায়ের ১ টি সার্টিফিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১ টি সার্টিফিকেট এবং সাংবাদিকতার প্রমাণপত্র ও পত্রিকায় তার করা সংবাদের কপি আছে। এক্ষেত্রে তার সব এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল হবে = ২+১+১=৪। কিন্তু, যেহেতু সব এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বরের যোগফল সর্বোচ্চ ৩ হবে, সেহেতু তার এক্সট্রা/কো-কারিকুলার কার্যক্রমের প্রাপ্য নম্বর ৩ (সর্বোচ্চ) হবে।

প্রফেসর ড. ইসমত আরা বেগম
আহ্বায়ক, প্রাধ্যক্ষ পরিষদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
নোট: বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন অনুযায়ী এই নীতিমালা সংশোধন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।